ঢাকাSaturday , 2 March 2024
  • অন্যান্য

সংসার চালাতে অটো রিক্সা চালান ওমান ফেরত বিলকিস বেগম

মনিরুজ্জামান মনির
নভেম্বর ২৭, ২০২৩ ৫:৩৯ অপরাহ্ণ । ২৪২ জন
link Copied

নারী হয়েও নিজের সংসার চালানোর জন্য ছেলেদের প্যান্ট শার্ট আর মাথায় ক্যাপ পড়ে অটো রিক্সা চালাচ্ছেন বিলকিস বেগম।

ভাগ্য পরিবর্তনের সুদূর ওমান পাড়ি দিয়েছিলেন এই নারী। কিন্তু সেখানে দালালের খপ্পরে পড়ে বেশিদিন থাকতে না পেরে দেশে ফিরে আসেন বিলকিস বেগম।

এমন এক ঘটনা ঘটেছে শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার কুড়িকাহনীয়া ইউনিয়নের কারারপাড গ্রামের মৃত মহের উদ্দিনের মেয়ে বিলকিস বেগমের সাথে।

তিনি জানান, ২০২১ সালে এই নারী চাকুরী করার জন্য ওমানে গিয়েছিলেন কিন্তু সেখানে গিয়ে জানতে পারে তিনি দালালের খপ্পরে পড়েছেন। এর পর সেখানে বাসা বাড়িতে কাজ করে কোন রকম চলছিল। পরে যে অফিসের মাধ্যমে বাসা বাড়ীর কাজ করতাম তারা আমাকে মারপিট করে টাকা পয়সা রেখে বের করে দিয়েছে। ওমানে ভাল চাকুরী না পেয়ে ২০২৩ সালে দেশে ফিরে আসেন।

এরপর নিজ দেশে এসে নিজের সংসার চালানোর জন্য কোন আয় উপার্জন না থাকায় বেচেঁ থাকার বিকল্প পথ হিসেবে অটো রিক্সা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন সাহসী নারী বিলকিস বেগম।

বয়স চল্লিশের উর্ধ্বে এই নারী ব্যক্তি জীবনে এক সন্তানের জননী একজন স্বামী পরিত্যক্তা মহিলা।

এ বিষয়ে ওই গ্রামের শিক্ষক হারুনুর রশিদ বলেন, অন্যের বোঝা না হয়ে নিজেই নিজের কর্মসংস্থান করার যে সাহস দেখিয়েছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়। যদি তার মত এদেশের বেকাররা বিদেশে না গিয়ে নিজেরা এভাবে কর্মসংস্থান করতো তাহলে এদেশে বেকারের সংখ্যা অনেক কমে যেত।

এ বিষয়ে ওই গ্রামের যুবক মো: মঞ্জিল মিয়া বলেন, বিলকিস বেগম একজন নারী হয়েও ছেলেদের প্যান্ট শার্ট আর মাথায় টুপি পড়ে অটো রিকসা চালিয়ে তার সংসার চালাচ্ছে। এটাকে খারাপ চোখে দেখি না বরং আমি তাকে স্যালুট জানাই। যাতে করে তাকে দেখে অনেক বেকার যুবক যুবতী কোন কর্মকেই ছোট চোঁখে না দেখে।

এ বিষয়ে বিলকিস বেগম বলেন, আমি বিদেশে ভাল চাকুরী করতে না পেরে দেশে ফিরে এসে অটোরিকসা চালানোর সিদ্ধান্ত নেই। ভারা অটোরিকসা চালিয়ে প্রায়ই প্রতিদিন ৬শ থেকে ৭শ টাকা উপার্জন করি। এতে করে অটোরিকসা ভাড়া বাদ দিয়ে প্রায়ই ৫শ টাকা প্রতিদিন থাকে। এতে আমার সংসার খুব ভালভাবে চলে। যদি আমাকে সরকারিভাবে একটি অটোরিকশা দেওয়া হতো তাহলে আমি সুন্দরভাবে চলতে পারতাম। অটোরিকশা চালাই অনেকে অনেক কিছু বলে আবার কেউ সম্মানের চোখে দেখে। আমি অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করেছি। চুরি তো আর করছি না।

এ ব্যাপারে ৯ কুড়িকাহনিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফিরোজ খান নুন বলেন, যেহেতু আপনার মাধ্যমে বিষয়টি আমি জানলাম। আমাদের যা সহায়তা করা দরকার তা আমরা করবো।

এনপি