ঢাকাSunday , 25 February 2024

গফরগাঁওয়ে ফুল চাষে সফল মোস্তাফিজুর

মিথুন
ডিসেম্বর ২৫, ২০২৩ ৭:০৮ অপরাহ্ণ । ৩৩ জন
link Copied

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার সালটিয়া ইউনিয়নের রৌহা গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান প্রায় তিন একর জমিতে গড়ে তুলেছে ‘চির সবুজ ‘ নামে নার্সারী। তিনি ফুল চাষের পাশাপাশি ফুলের চারা বিক্রি করে পার্শ্ববর্তী জেলা ও উপজেলার ক্রেতাদের কাছে। বছরে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছেন। দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে পরিশ্রমের ফসল একের পর এক সফলতা এসেছে। সংসারে এনেছেন স্বচ্ছলতা। অল্প পুজিতে যাত্রা শুরু করে এখন তিনি বড় পরিসরের নার্সারী ব্যবসায়ী। ফুল ও ফুল গাছের চারা বিক্রি করে বছরে ১০ লক্ষাধিক টাকা আয় করতে পারে।

জানা যায়, ১৭ টাকা নিয়ে ১৯৯৮ সালে যাত্রা শুরু করে। ২৬ বছরে এগিয়ে গেছে বহুদূর। সফলতা অর্জন করতে পেরেছে। নিজের জমি, পাকা বাড়ি হয়েছে। বর্তমানে ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ টাকার ফুল রয়েছে। শুধু ফুল নয় ফুল গাছও বিক্রি করে। ৬ টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল্যের ফুলের চারা বিক্রি করে। পিতার কাজে সহায়তা করে কলেজ পড়ুয়া ছেলে দিদারুল ইসলাম। পড়ালেখার পাশাপাশি বাবাকে সহায়তা করে।

দিদারুল ইসলাম বলেন, আমিসহ আমার কয়েকজন সহপাঠী বাবার নার্সারীতে অবসরে সময় দেই। এতে আমার সহপাঠীদের লেখাপড়ার খরচ নিজেরাই বহন করতে পারছে। নার্সারীর পাশেই কলেজ তাই আমাদের লেখাপড়ার পাশাপাশি সময় দেওয়া সহজ।

মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ২০০০ সালের পরে আর পিছন তাকাতে হয়নি। বর্তমানে শতাধিক দেশি বিদেশি জাতের ফুল গাছ আছে। আফ্রিকান টিউলিপ, ম্যাঙ্গোলিয়া, উষ্টেরিয়া, কেশিয়া জাবানিকাবা, জাফরান, ইনকা(গাঁধা), মশি(গাঁধা), চন্দ্র মল্লিকা, ঝিনিয়া, স্টার, রজনী, জাকার আন্ডা, চাইনিজ লন্ডন জবা ইত্যাদি। প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক কাজ করে। শীতকালে ৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকার ফুল গাছ বিক্রি করে। জাতীয় দিবসে অর্ধ লক্ষ টাকা বিক্রি করতে পারে। বছরে ৪ লক্ষাধিক টাকার ফুল বিক্রি করে। ফুল ও ফুল গাছের চারা বিক্রি করে মোট ১০ লক্ষাধিক টাকা আয় করতে পারে।

শ্রমিক আব্দুর রশিদ (৫৮) বলেন,প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কাজ করি। দীর্ঘদিন ধরে আমি এই নার্সারীতে কাজ করি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাকিব আল রানা বলেন, আমরা আমাদের কৃষি অফিস থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে মোস্তাফিজুর রহমানকে সহায়তা করে থাকি। দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে অনেক সংগ্রাম করে তিনি এখন সফল চাষী।