ঢাকাSaturday , 13 April 2024

লাইপয়েড প্রোটিনোসিস নামক বিরল রোগ’এ আক্রান্ত কুড়িগ্রামের মোকাররাম

রফিকুল হক রফিক
মার্চ ১৪, ২০২৪ ৫:৪০ অপরাহ্ণ । ৮৫ জন
link Copied

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কালীগঞ্জ ইউনিয়নের সবুজপাড়া গ্রামের দিনমজুর কোরবান আলীর ছেলে মোকারাম(২৩)।

তার শরীরে বাসা বেঁধেছে ‘লাইপয়েড প্রোটিনোসিস’ নামের এক বিরল রোগ। টানা ১৭ বছরের বেশি সময় ধরে শরীরে বাসা বাঁধা এই লাইপয়েড প্রোটিনোসিস রোগ নিয়ে কোন রকম বেঁচে আছেন মোকারাম।

তৃতীয় শ্রেনিতে পড়ার সময় মোকারামের শরীরে এ রোগ ধরা পড়ে। যে বয়সে বন্ধু বান্ধবের সাথে স্কুলে কিংবা খেলার মাঠে থাকার কথা তখন থেকেই বিরল এ রোগে কাতরাচ্ছেন তিনি। ইচ্ছে করলেও এখন তিনি হাটতে কিংবা বসতে পারে না। পুরো শরীর ঢেকে গেছে এ রোগে। অসহ্য ব্যাথা নিয়ে কষ্ট আছেন এই যুবক।ছেলেকে সুস্থ করতে শেষ সম্বল বিক্রি করেও সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারে নাই মোকারামের বাবা কোরবান আলী। এমন অবস্থায় বিত্তবানদের সহযোগিতা চেয়েছেন দিনমজুর বাবা কোরবান আলী।

জানা গেছে,জন্মের পর থেকে মোকারাম সুস্থ ও সবল ছিল। নিয়মিত পড়াশোনা ও বন্ধু বান্ধবের সাথে খেলাধুলা করে সময় কাটতো। হটাৎ একদিন অসুস্থ হয়ে পড়েন মোকারাম। সারা শরীরে ব্যাথা অনুভুত হলে মোকারামের বাবা ছেলেকে নিয়ে স্থানীয় চিকিৎসকের স্মরনাপন্ন হন। দীর্ঘদিন ডাক্তার কবিরাজ দেখিয়ে কাজ না হলে ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা হন তারা। ততদিনে মোকারামে সর্ব শরীর ঢেকে গেছে লিপোড প্রোটিনোসিস নামের এই বিরল রোগে। এরই মধ্যে মোকারামের মা মারা যায়। ঢাকা পিজি হাসপাতালে ৪ মাস চিকিৎসা নিয়ে অর্থের অভাবে হতাশ হয়ে ফিরে আসেন পরিবারটি। চিকিৎসকরা বলছেন, বিরল এ রোগটি উন্নত চিকিৎসা করালে হয়তো সুস্থ হতে পারবে।তবে এই রোগের চিকিৎসা খরচ খুবই ব্যয় বহুল হওয়ায় দুশ্চিন্তায় আছে পরিবারটি।

মোকারাম বলেন, সারাদিন বিছানায় শুয়ে দিনকাটে।ইচ্ছে করলেও হাটতে পারি না, খেলতে পারি না। খুব কষ্ট হয়। খাবারের রুচি দিনদিন কমে যাচ্ছে। আমি সুস্থ হতে চাই।

মোকরামের বাবা কোরবান আলী বলেন, আমার ছেলে মোকারাম ছোট্ট থেকেই এ রোগে আক্রান্ত হন অনেক চিকিৎসা করেও সুস্থ করতে পারিনি, আমার ছেলে অনেক মেধাবী লেখাপড়ার খুবই ইচ্ছে কিন্তু তার শরীরের এমন করুণ অবস্থা। বিছানা থেকে উঠতে পারে না। ঠিকমত হাটতে পারে না। দিন দিন শরীর শুকিয়ে কাঁঠ হয়ে যাচ্ছে। টাকার অভাবে ছেলের চিকিৎসা করাতে না পারা কতটা কষ্টের তা ভাষায় বোঝাতে পারবো না।

তিনি আরো বলেন, সরকার ও দানশীলদের কাছে আমার জোড় দাবি আমার ছেলের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিলে খুবই ভালো হতো।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী বলেন, মোকারাম ৬ বৎসর বয়সে হতে এ রোগে ভুগছেন। অনেক চিকিৎসার পরেও সুস্থ হয়ে উঠেনি,এদিকে তার চিকিৎসার পিছনেই জমিজমা বিক্রি করে সর্বশান্ত হয়ে গেছে অসহায় পরিবারটি। যদি উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যেত তাহলে হয়তো মোকারাম সুস্থ হয়ে উঠতো।

এ ব্যাপারে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ডাঃ অজয় কুমার রায় বলেন, লাইপয়েড প্রোটিনোসিস এর কারনে রোগীর শরীরের পুরো অংশ কুচকিয়ে জীর্নশীর্ন হয়ে যায়। উন্নত চিকিৎসা পেলে হয়তো কিছুটা উন্নতি হতে পারে।তবে বিরল এই রোগটির কার্যকরী কোনো চিকিৎসা নেই।