ঢাকাSaturday , 22 June 2024
  • অন্যান্য

কুড়িগ্রামে জেলা পুলিশের ব্যতিক্রমী আয়োজন

রফিকুল হক রফিক
ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৪ ৫:৩১ অপরাহ্ণ । ১২৮ জন
link Copied

কুড়িগ্রাম জেলায় সকল কর্মরত পুলিশ সদস্যদের বাবা-মাকে নিয়ে এক ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছে কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ।

শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুড়িগ্রাম পুলিশ লাইন্স মাঠে সকল পুলিশ সদস্যের জীবিত পিতা মাতাকে নিয়ে এক প্রীতি সম্মলনের আয়োজন করে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান কর্মরত পুলিশ সদস্যরা।

পুলিশ সুপার আল আসাদ মোঃ মাহফুজুল ইসলাম ফুলেল শুভেচ্ছা ও উদ্বোধনী বক্তব্যের পর শ্রদ্বাভাজন পিতামাতাদের বেসিক স্বাস্থ্য পরিক্ষা ( ব্লাড প্রেশার, ডায়াবেটিস, ব্লাড গ্রুপ সহ অন্যান্য) সেবা প্রদান করেন। ক্ষেত্রভেদে তাৎক্ষণিক সরবরাহ করা হয় ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ পুলিশের কর্মরত পুলিশ সদস্যদের বাবা-মায়েরা অনেকটা মিসিং ডট। নানাবিধ কর্মব্যস্ততা, বদলীর চাকরি, অবস্থান, পারিবারিক ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে পুলিশ সদস্যরা তাদের বাবা মায়েদের সেবাযত্ন বা দেখভাল করতে পারেন না। তাই সেই উপলব্ধি থেকে কুড়িগ্রাম জেলায় সকল কর্মরত পুলিশ সদস্যদের পিতামাতাদের জন্য এক প্রীতি সম্মেলনের আয়োজন করে কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ।

এসময় পিতা-মাতার প্রীতি সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মোঃ রুহুল আমীন, উলিপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম ওহিদুন্নবী, নাগেশ্বরী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ সুমন রেজা, রৌমারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ মমিনুল ইসলাম, পুলিশ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার মোঃ আখতারুজ্জামানসহ সকল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।

এ অনুষ্ঠানে সকালের নাস্তা হিসেবে পরিবেশন করা হয় শীতকালীন পিঠা ও পুলি। পুলিশ সদস্যদের মায়েদের জন্য ছিল আনন্দময় মিউজিক্যাল চেয়ার খেলার ব্যবস্থা। এ সময় প্রথম পুরষ্কার পান পুলিশ লাইন্সে কর্মরত কনস্টেবল জীবন চন্দ্র রায়ের মা জোনাকী রায়, ২য় স্থানে ডিএসবিতে কর্মরত কনস্টেবল ইমরান এর মাতা মোছাঃ জেসমিন আক্তার এবং ৩য় স্থানে রৌমারী সার্কেল অফিসে কর্মরত এএসআই নিরস্ত্র মোঃ রোকনুজ্জামান এর মাতা মোছাঃ আমবিয়া খাতুন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে সকল পুলিশ সদস্যের বাবাদের নিয়ে আনন্দময় ঝুঁড়িতে বল নিক্ষেপ খেলার আয়োজনও করা হয়। এসময় প্রথম পুরস্কার পান পুলিশ লাইন্সে কর্মরত এএসআই সশস্ত্র মোঃ রাজু এর পিতা মোঃ জয়নাল আবেদিন, ২য় স্থানে পুলিশ লাইন্সে কর্মরত কনস্টেবল মিন্টু চন্দ্র এর পিতা বাচ্চা চন্দ্র এবং ৩য় স্থানে ভূরুঙ্গামারী থানায় কর্মরত কনস্টেবল মোঃ আল আমিনের পিতা মোঃ এজাজুল। পরে আগত পুলিশ সদস্য ও তাদের শ্রদ্ধাভাজন পিতামাতার সাথে পুলিশ সুপার আল আসাদ মোঃ মাহফুজুল ইসলাম দুপুরের প্রীতিভোজে অংশ গ্রহণ করেন।

কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) আল আসাদ মো: মাহফুজুল ইসলাম জানান, সন্তানদের কর্মক্ষেত্রে বাবা মায়েদের সম্মান জানানোর এই বিরল বিষয় তাদের জীবনে প্রথম। তারা এই স্মৃতি আমৃত্যু মনের মনিকোঠায় সঞ্চয় করে রাখবেন আমার বিশ্বাস। পুলিশ সদস্যদের অনেক অভিভাবক মাননীয় আইজিপি ও সদাশয় সরকারের সুউচ্চ প্রশংসা করে স্মৃতি রোমন্থন করেন। অনুষ্ঠান শেষে গর্বিত পিতা-মাতাকে পুলিশের মনোগ্রামযুক্ত শীতের শাল উপহার দেয়া হয়।