ঢাকাWednesday , 24 July 2024
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাসে আগুন দিলে ১০ হাজার টাকা ‘পেমেন্ট’ দেওয়া হয়: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নভেম্বর ২২, ২০২৩ ৬:৪০ অপরাহ্ণ । ১৮৩ জন
link Copied

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘বিএনপির এটি কি জঘন্য ন্যাক্কারজনক ঘৃণ্য রাজনীতি যে, গাড়িতে বা কোনো যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিলে ১০ হাজার টাকা “পেমেন্ট” দেওয়া হয়, আবার সেটা নিশ্চিত করার জন্য ভিডিও ধারণ করে লন্ডনে তাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে এবং এখানের ঊর্ধ্বতন নেতাদের কাছে পাঠাতে হয়। এটি কি কোনো রাজনৈতিক দলের কাজ! জঙ্গি, সন্ত্রাসী সংগঠনও তো এ রকম কাজ করে না।’

বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) প্রকাশিত সাংবাদিক স্বপন কুমার কুন্ডু রচিত ‘সাংবাদিকতার অ আ ক খ’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ সব কথা বলেন।

পিআইবির মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ, কর্মকর্তাবৃন্দ এবং গ্রন্থকার মোড়ক উন্মোচনে অংশ নেন। মন্ত্রী গ্রন্থটির লেখক ও প্রকাশককে ধন্যবাদ জানান এবং সাংবাদিক ও আগ্রহীদের জন্য বইটিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেন।

সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘তাদেরকে (বিএনপি) এ দেশে রাজনৈতিক দল বলা হয় এবং তাদের সাথে আলোচনার কথাও কেউ কেউ বলে, এখন অবশ্য বলে না। তবে এই অপরাজনীতি যারা করে তাদের রাজনীতি করার অধিকার থাকা উচিত নয়। অগ্নিসন্ত্রাসী যাদেরকে ধরা হয়েছে এবং যারা এই জবানবন্দি দিয়েছে প্রত্যেকেই বিএনপির নেতা, একজন ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতিও আছেন সেখানে। অর্থাৎ এটা দিবালোকের মতো স্পষ্ট জবানবন্দিগুলো থেকে যে কারা এগুলো করছে। রিজভী সাহেব অন্তরালে বসে তাদের দলের পক্ষ থেকে এ নির্দেশগুলো দিচ্ছেন।’

সরকার বিএনপি থেকে বেরিয়ে এসে নির্বাচন করার জন্য কোনো নেতাদের চাপ দিচ্ছে কি না -এ প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চাপ সৃষ্টি করলে তো বিএনপির আরো অনেক নেতা চলে আসতো। আমরা কাউকে চাপ দিচ্ছি না। বিএনপির অপরাজনীতির সাথে তারা দ্বিমত পোষণ করে, তারা এই ধ্বংসাত্মক রাজনীতি সহযাত্রী হতে চায় না বিধায় বা এই জ্বালাও-পোড়াও বদনামটা তাদের ঘাড়ে যাতে না পড়ে সে জন্য এবং দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে অব্যাহত রাখার জন্যই বেরিয়ে এসে নতুন জোট করে নির্বাচন করার ঘোষণা দিচ্ছে বলে আমি মনে করি।’

‘কেউ কেউ দেশে বৃষ্টি হলে বিদেশে ছাতা ধরে’

সাংবাদিকরা এ সময় ‘পোশাক শ্রমিক কল্পনা আখতার হুমকি বোধ করে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে জানিয়েছেন’ এ বিষয়ে বক্তব্য চাইলে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘কেউ যদি নিরাপত্তাহীনতাবোধ করেন, তিনি প্রথমত পুলিশের দ্বারস্থ হন, অন্তত একটা জিডি করে। কল্পনা আক্তার কোনো জায়গায় জিডি করেছেন বা তিনি নিরাপত্তাহীনতাবোধ করছেন সেটিও মৌখিকভাবে কাউকে বলেছেন বলে আমাদের জানা নেই। এখন কেউ যদি বাংলাদেশে বৃষ্টি হলে ওয়াশিংটনে ছাতা ধরে তাহলে সে নিয়ে আমার বলার কিছু নাই।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে কিছু মানুষ আছে, দেশে বৃষ্টি হলে হয় মস্কোতে ছাতা ধরে, না হয় ওয়াশিংটনে ছাতা ধরে, আবার কেউ কেউ পিকিংও যায় ছাতা ধরতে। এখন বিষয়টা সে রকম কি না আমি জানি না। তবে এ নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন যে, এটি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে, প্রয়োজনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে জানতে চাইবে।’

‘অবশ্যই সরকারের কাছে যদি তিনি রিপোর্ট করেন অবশ্যই সরকার তাকে সর্বোত সহায়তা করবে, নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য যা যা করা প্রয়োজন সেটি করবে’ উল্লেখ করে হাছান বলেন, ‘নিয়মটা হচ্ছে, যিনি বাংলাদেশের নাগরিক, বাংলাদেশে বসবাস করেন, তিনি যদি নিরাপত্তাহীনতাবোধ করেন তাহলে বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বা নিরাপত্তা বাহিনীকেই বলতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতও যখন নিরাপত্তাহীনতাবোধ করেছেন তখন আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছেন, পুলিশকে বলেছেন।’

‘গাড়ি পোড়ানো-হামলার পরেও সিপিডি, টিআইবি, অ্যামনেস্টি চুপ’

‘দেশে বিএনপি-জামায়াতের অবরোধে শতাধিক গাড়ি পোড়ানো-হামলার পরও সিপিডি, টিআইবি, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল চুপ কেন’ সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণ এখন সিপিডি, টিআইবি, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বিবৃতি খুঁজছে, তারা কোথায়। দেশে এতো কিছু ঘটে যাচ্ছে আগুনসন্ত্রাস হচ্ছে, মানুষ মারা যাচ্ছে, স্কুলে আগুন দিচ্ছে, তখন উনারা কোথায়, তারা এখন নিশ্চুপ কেন!

তিনি বলেন, ‘ঢাকায় গুলশানের উপনির্বাচনে একজনকে কেউ তাড়া করলো সেটি নিয়ে তারা যেভাবে বিবৃতি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লো আর এখন সারাদেশের মানুষকে যে জিম্মি করার চেষ্টা করা হচ্ছে, প্রতিদিন গাড়ি-ঘোড়া পোড়াচ্ছে, জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে মারলো এরপরও উনাদের খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমি শংকিত তারা কোনো অসুস্থ কি না বা মানসিকভাবে তাদের কোনো সমস্যা হয়েছে কি না, এটি অনেকে প্রশ্ন রেখেছে। তারা এতো জ্ঞানী এবং দেশ সম্পর্কে এতো সচেতন যে, কেউ কাউকে ঘুষি মারলেও বিবৃতি দিতে চায় বা দেয়, তারা এখন কোথায়, এটি জনগণের প্রশ্ন।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘ফিলিস্তিনের গাজায় যেভাবে হত্যাযজ্ঞ চলছে, বাংলাদেশে এতো কিছু ঘটছে ২০১৩, ১৪, ১৫ সালেও জ্বালাও-পোড়াও হয়েছে অথচ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তখনও কিছু বলে নাই, এখনো নিশ্চুপ। যারা এ ধরণের একপেশে আচরণ করে তাদের বিবৃতি আপনারা ছাপান আর টেলিভিশনেও কেন এগুলো দেখায় সেটিই আমার প্রশ্ন।’

এসআর