ঢাকাSaturday , 2 March 2024
  • অন্যান্য

নতুন কৌশলে ভোক্তা অধিকারের অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৪ ৮:২৫ অপরাহ্ণ । ৪৫ জন
link Copied

মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করে মূল কারসাজিকারীকে ধরতে নতুন কৌশলে অভিযান শুরু করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এরই অংশ হিসেবে বুধবার একটি বহুজাতীক ওষুধ বাজারজাতকারী কোম্পানিতে অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেয় ভোক্তা অধিকার।

জানা যায়, ফার্মা সলিউশন বাংলাদেশ লিমিটেড নামের একটি ওষুধ বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন কোডে বিদেশি কোম্পানির ডায়াবেটিস পরীক্ষা করার স্টিক কিট রাজধানীর বিভিন্ন নামিদামি ফার্মেসীতে বিক্রি করছে। তবে যে বিদেশি কোম্পানির নামে এসব কিট বিক্রি করছে সেই কোম্পানি ফার্মা সলিউশন বাংলাদেশ লিমিটেডের কাছে কোনো ডায়াবেটিস পরীক্ষা করার স্টিক কিট বিক্রি করেনি।

এমন তথ্যের ভিত্তিতে মাঠে নামে জাতীয় ভোক্তা অধিকার। ভোক্তা অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা অফিস প্রধান, সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মণ্ডলের নেতৃত্বে রাজধানীর কাকরাইলের লাজ ফার্মা এবং উত্তরার একটি ফার্মেসী থেকে ফার্মা সলিউশন বাংলাদেশ লিমিটেডের সরবরাহ কিট এবং চালান ভাউচার সংগ্রহ করে। পরে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করার কিটের মাদার কোম্পানি জার্মানির রুস কোম্পানির সঙ্গে মেইলে যোগাযোগ করেন। সেখানে থেকে জানানো হয়, ফার্মা সলিউশন বাংলাদেশ লিমিটেডের কাছে তারা কোনো কিট বিক্রি করেনি। বা তাদেরকে বিক্রি করার কোনো অনুমতিও দেয়নি।

মাদার কোম্পানি থেকে এমন মেইল পাবার পর ফার্মা সলিউশন বাংলাদেশ লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানের প্রধান অফিসে যোগাযোগ করে ভোক্তা অধিকার। কিন্তু সেখান থেকেও জানিয়ে দেওয়া হয়, তারা এই কোম্পানির ডায়াবেটিস পরীক্ষা করার কিট বিক্রি বা সরবরাহ করেন না। তাহলে ফার্মা সলিউশন বাংলাদেশ লিমিটেডের ঢাকা এবং টঙ্গি শাখা থেকে এই কিট কিভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে? এগুলো কি তাহলে নকল?

এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বুধবার রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় ফার্মা সলিউশন বাংলাদেশ লিমিটেডের ঢাকায় সরবরাহ শাখায় অভিযান চালায় ভোক্তা অধিকার। এই প্রতিষ্ঠানের ঢাকা শাখার সিনিয়র ম্যানেজার মাহবুবুল আলম খান লাজ ফার্মায় এই কিট বিক্রির তথ্য স্বীকার করেন। এবং বলেন, এসব কিট প্রধান শাখা থেকেই পাঠানো হয়েছে। ঢাকা শাখা থেকে কোনো কিছুই বানানো বা আমদানি করে আনা হয় না।

একই প্রতিষ্ঠানের প্রধান অফিস এবং শাখা অফিসের বক্তব্যে গড়মিল থাকায় জনস্বার্থে ফার্মা সলিউশন বাংলাদেশ লিমিটেডের ঢাকায় সরবরাহ শাখার সমস্ত কার্যক্রম এবং অফিস বন্ধ করে দেয় ভোক্তা অধিকার।

অভিযানের বিষয়ে জব্বার মণ্ডল বলেন, ডায়াবেটিক পরিমাপের যে কুইক টেস্ট স্টিকগুলো ফার্মা সলিউশন বাংলাদেশ লিমিটেড নামের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জার্মানির মাদার কোম্পানি রুস এর সাথে এগ্রিমেন্ট করে মূলত বাংলাদেশে বাজারজাত করে আসছিল। কিন্তু কিছুদিন হলো ফার্মা সলিউশন বাংলাদেশ লিমিটেডের সাথে রুস কোম্পানি এগ্রিমেন্ট বাতিল করে বাংলাদেশের নতুন অন্য একটি কোম্পানির সঙ্গে এগ্রিমেন্ট করেছে। কিন্তু ফার্মা সলিউশন কোম্পানি রুস কোম্পানির নামে ডায়াবেটিক পরিমাপের কুইক টেস্ট স্টিকগুলো একটি ভূয়া ব্যাচ নাম্বার দিয়ে বাজারজাত করছিল। ঢাকার লাজ ফার্মাসহ বিভিন্ন ফার্মেসীতে তারা সরবরাহ করেছে। আমরা তদন্ত করে দুইটি ফার্মেসীতে বিক্রির প্রমাণ পেয়েছি। এ বিষয়ে দায়িত্বরত ম্যানেজারও স্বীকারক্তি দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, রুস কোম্পানি বলছে ২৬০৭৬১৫৬ এই ব্যাচ নাম্বারে যে কুইক টেস্ট স্টিক কিট সেগুলো তারা বাংলাদেশে সরবরাহ করেনি। এবং ফার্মা সলিউশন বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রতিষ্ঠানের হেড অফিস থেকে লিখিতভাবে বলেছে এই স্টিক কিট তারা ক্রয়ও করেনি, বিক্রিও করে না। কিন্তু লাজ ফার্মা বলছে তারা এই প্রতিষ্ঠান থেকে কিনেছে। এবং এদের সেল সেন্টারের যিনি ম্যানেজার উনিও স্বীকারক্তি দিয়েছেন যে তারা লাজ ফার্মায় বিক্রি করেছেন। তাদের বিক্রি করার ক্যাশ ম্যামো, ইনভয়েসেও আমরা বিক্রি করার প্রমাণ পেয়েছি। এখানে একটি ধোয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। তাহলে এই কিটের সোর্স টা কোথায়? অরিজিন টা কোথাকার? কে নিয়ে আসছে? কিভাবে এগুলো বিক্রি হলো? না নিজেরাই এগুলো তৈরি করে বাজারজাত করে ভোক্তাদের ঠোকানো হচ্ছে?

তিনি বলেন, যদি নকল হয়ে থাকে তাহলে এই টেস্ট স্টিকগুলো দিয়ে ডায়াবেটিকস পরীক্ষা করলে রিপোর্ট ভুল আসবে। ফলে ভোক্তারা প্রতারিত হবে। এটা প্রমাণিত হয়েছে। এই অপরাধে এই প্রতিষ্ঠানের সকল প্রকার কার্যক্রম জনস্বার্থে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার আদেশ দেওয়া হয়েছে।