রবিবার , ২২ জানুয়ারি ২০২৩ | ১৬ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. কৃষি
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরির খবর
  8. জাতীয়
  9. জীবনযাপন
  10. তথ্য ও প্রযুক্তি
  11. ধর্ম
  12. প্রবাস
  13. ফিচার
  14. বিনোদন
  15. মুক্তমত

হত্যার ৭ বছর পর জানা গেল, মেয়েকে হত্যা করেছে বাবা নিজে

প্রতিবেদক
admin
জানুয়ারি ২২, ২০২৩ ১১:০২ পূর্বাহ্ণ

কিশোরী পারুল আক্তার। বাবা-মায়ের অন্যান্য সন্তানদের মধ্যে মেধাবী ছিলেন। তাই বাবাও তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতো। মেয়ে বড় হয়ে শিক্ষিত হবে। কিন্তু নবম শ্রেনিতে পড়া অবস্থায় প্রেম করে পালিয়ে বিয়ে করেন পারুল আক্তার। তাঁর বাবা সেই বিয়ে মেনে নেননি।

ঢাকা জেলার আশুলিয়া এলাকায় এসে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি শুরু করেন পারুল ও তাঁর স্বামী নাছির উদ্দিন ওরফে বাবু। দুজন যা বেতন পেতেন, তা দিয়ে তাঁদের সংসার খুব ভালোভাবে চলত না। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মাঝেমধ্যেই ঝগড়া হতো। বিয়ের তিন বছর পর ঝগড়া করে স্ত্রীকে বাসায় রেখে বেরিয়ে যান নাছির। পারুল তাঁর বাবাকে ফোন করে পারিবারিক অশান্তির কথা বলেন।

পরে কৌশলে মেয়েকে নিজের কাছে নিয়ে যান বাবা। এরপর জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে নিয়ে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। ২০১৫ সালের এ ঘটনায় জড়িত মেয়েটির বাবা আবদুল কুদ্দুছ খাঁ ও তার সহযোগী মোকাদ্দেছ ওরফে মোকা মন্ডলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তার দু’জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

রোববার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে পিবিআই প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি বনজ কুমার মজুমদার বলেন, ঘটনার শুরু ২০১২ সালে। সেই বছর পারুল আক্তার একই এলাকার নাছির উদ্দিন ওরফে বাবুর সঙ্গে পালিয়ে ঢাকায় এসে বিয়ে করে। এ ঘটনায় কুদ্দুছ খাঁ কালিহাতি থানায় জিডি করেন। উভয়ের পরিবার বিয়ে মেনে না নেওয়ায় তারা ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়ায় থাকতে শুরু করে। চাকরি নেয় পোশাক কারখানায়। পারিবারিক অশান্তি চলতে থাকে। পারুল তার বাবাকে ফোন করে অশান্তির কথা জানায়। মেয়ের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন বাবা। সেইসঙ্গে ছিল অপমান বোধ ও রাগ। একপর্যায়ে তিনি মেয়েকে ভালো ছেলে দেখে অন্যত্র বিয়ে দিয়ে উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখান। ২০১৫ সালের ১৮ জুলাই নাসির তার নানীকে দেখতে যান। সেই সুযোগে পারুল ১৯ জুলাই তার বাবাকে ফোন করে টাঙ্গাইলে চলে যান। সেদিন তার স্বামী নাছির উদ্দিন স্ত্রীকে বাবার বাড়ি চলে যেতে প্ররোচনার অভিযোগে আশুলিয়া থানায় জিডি করেন। ওদিকে ১৯ জুলাই কুদ্দুছ মেয়েকে নিজ বাড়িতে না নিয়ে বন্ধু মোকা মন্ডলের বাড়ি টাঙ্গাইলের ভুঞাপুরে নিয়ে যান। সেখানে মেয়েকে বোঝানো হয়, কিছুদিন তাকে নাছিরের কাছ থেকে পালিয়ে থাকতে হবে। সেজন্য তাকে নিয়ে কুদ্দুছ খাঁ ও মোকা মন্ডল জয়পুরহাটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। পাঁচবিবি এলাকায় একটি নদীর পাশে নির্জন জায়গায় রাতের বেলা পারুলকে তার বাবা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। এরপর মোকা মন্ডলের সহযোগিতায় গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।

পিবিআই প্রধান জানান, ১৬৪ ধারায় কুদ্দুছের দেওয়া জবানবন্দি অনুসারে, তারা তিনজন রাতের অন্ধকারে নদীর পাড় দিয়ে হাঁটতে থাকেন। মেয়ের ইতোপূর্বের কার্যকলাপের অপমান বোধ থেকে রাগে বাবা তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। তারপর মেয়ের ওড়না দুই টুকরা করে তিনি হাত এবং মোকা মন্ডল পা বাঁধেন। বাবা নিজের গামছা দিয়ে মেয়ের গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। তারা লাশ নদীতে ফেলে দিয়ে টাঙ্গাইলে চলে আসেন। ২০১৫ সালের ৪ আগস্ট নাছির উদ্দিনের পরিবারের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইলের আদালতে পেনাল কোডের ৩৬৪/৩৪ ধারায় মামলা করেন কুদ্দুছ। কালিহাতি থানা পুলিশ তদন্তে প্রেমের বিয়ের প্রমাণ পায়। কিন্তু মেয়েটিকে না পাওয়ায় ঘটনাস্থল তাদের এখতিয়ারবহির্ভূত এলাকা (ঢাকায়) মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করে। বাদীর বারবার নারাজীর পরিপ্রেক্ষিতে টাঙ্গাইলের ডিবি পুলিশ, পিবিআই ও সিআইডি তদন্ত করে একই রিপোর্ট দেয়। সবশেষে আদালত জুডিশিয়াল তদন্ত করে রিপোর্ট দেয় যে, বাদী ঢাকার আদালতে মামলা করলে প্রতিকার পেতে পারেন। এরপর গত বছরের ২৭ নভেম্বর কুদ্দুছ খাঁ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে যৌতুকের জন্য মারপিট করে হত্যা মামলার আবেদন করেন। ৩০ নভেম্বর আদালত আশুলিয়া থানাকে মামলা রুজু এবং পিবিআই ঢাকা জেলাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। আশুলিয়া থানায় ১১ ডিসেম্বর মামলা হলে পিবিআই তদন্ত শুরু করে।

বনজ কুমার মজুমদার জানান, পিবিআই নাছির উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। বাদীকেও ডাকা হয়। বাদীকে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অসামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য দেন। একপর্যায়ে একটি মোবাইল ফোন নম্বরের সূত্র ধরে তদন্ত এগোয়। সেসব তথ্য-প্রমাণ ও যুক্তি উপস্থাপন করা হলে কুদ্দুছ স্বীকার করেন যে, তিনি নিজেই মেয়েকে হত্যা করেছেন। তার দেওয়া তথ্য যাচাইয়ের জন্য পিবিআই পাঁচবিবি থানা থেকে ২০১৫ সালের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে। পাঁচবিবি থানার করা মামলার আলামত, সুরতহালের বর্ণনা এবং পোস্টমর্টেম রিপোর্টের সঙ্গে কুদ্দুছ খাঁর বর্ণনার মিল পাওয়া যায়। অবশেষে কুদ্দুছকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে নেওয়া হলে তিনি বন্ধু মোকা মন্ডলের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেন। মেয়ে কথার অবাধ্য হয়ে পালিয়ে বিয়ে করায় সম্মানহানি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন এবং সে কারণেই তাকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেন।

এসআর

সর্বশেষ - সারাদেশ