জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আলীম আখতার খান বলেছেন, অধিদপ্তরের কার্যক্রম পরিচালনায় ওপর মহলের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের চাপ নেই।
তিনি বলেন, “কমপক্ষে আমার দায়িত্বকালীন সময় পর্যন্ত আজ অবধি ওপর থেকে কেউ আমাকে কিছু করতে বলেনি বা নিষেধ করেনি। একইভাবে আমি অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদেরও কোনো কিছু চাপিয়ে দেইনি। আমি সবসময় বলেছি, স্বাধীনভাবে কাজ করতে হবে। ভুল হলে দরখাস্ত দিন, আমি দেখবো—এটা আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি।”
মহাপরিচালক আরও দাবি করেন, “আমরা অনেক বড় বড় কোম্পানিকেও আইন লঙ্ঘনের জন্য অধিদপ্তরে ডেকে এনে জরিমানা করেছি।”
সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘ভোক্তা স্বার্থ রক্ষায় বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সহযোগী ডিন অধ্যাপক ড. সৈয়দ মিজানুর রহমান। প্রধান আলোচক ছিলেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, ভোক্তা সংগঠক, সাধারণ ভোক্তা, শিক্ষার্থী এবং ভোক্তা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনলাইন ব্যবসা নিয়ে মহাপরিচালক আলীম আখতার খান বলেন, “এই মুহূর্তে দেশের অনলাইন বাণিজ্যে যে পরিমাণ প্রতারণা হচ্ছে, তাতে এটিকে কিছুটা এড়িয়ে চলাই ভালো। অনলাইন ব্যবসার বিরুদ্ধে আমাদের কাছে প্রায় ৪০ হাজার অভিযোগ রয়েছে। তবে এত অভিযোগ আসার অর্থ হলো—ভোক্তাদের সচেতনতা বেড়েছে, যা ইতিবাচক।”
তিনি জানান, আসন্ন কোরবানির ঈদকে ঘিরে রেফ্রিজারেটর সংক্রান্ত ভোক্তা অভিযোগও বাড়ছে।
মহাপরিচালক বলেন, “আমি যেসব কাজ করি, সেগুলো নিয়ে আপনাদের যদি প্রশ্ন থাকে, নির্দ্বিধায় করতে পারেন। আমি সবসময়ই ভোক্তাদের জন্য উন্মুক্ত। আমাদের পক্ষ থেকে আপনাদের আশ্বস্ত করতে পারি—অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে, জনগণের সেবা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। যদিও শতভাগ সম্ভব নয়, তবে আমরা চেষ্টা করে যাব।”



